News

শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনার মুখে পড়তে হল রাজ্যকে

Date: April 27th, 2018
Posted by: Admin

বাস্তবিক ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন? রিপোর্ট তো দেখে মনে হচ্ছে ঘরে বসে তৈরি। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আজ এই মর্মেই পশ্চিমবঙ্গকে সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনার মুখে পড়তে হল। সেই মতো নতুন করে প্রতিটি চাকরি প্রার্থীর বিস্তারিত উল্লেখ করে আগামী ৩ মে’র মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিল বিচারপতি ক্যুরিয়ন জোসেফ, বিচারপতি নবীন সিনহা এবং বিচারপতি এম সান্তনাগৌড়ার বেঞ্চ।
পাঠশালা প্রথা উঠে যাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে অনেকে প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরি পান। কিন্তু থেকে যায় বহু। তাদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সেই মতো কয়েক হাজার শিক্ষক চাকরির দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। প্রথমে হাইকোর্ট,পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন সংগঠক শিক্ষকরা। ২০০৮ সাল থেকে এই মামলা চলছে। কাদের যোগ্যতা আছে, তা বাছতে তিন সদস্যের একটি ‘ভেরিফিকেশন কমিটি’ গঠনের জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এও বলা হয়, প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরির ক্ষেত্রে এদের অগ্রাধিকার দেওয়া যায় কি না, সেটাও দেখবে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার রিপোর্ট তৈরি করে জমাও দেয়। যেখানে জানানো হয়, আবেদনকারীদের কেউই আর প্রাথমিকে শিক্ষকতার যোগ্য নয়।
আর সেই রিপোর্ট দেখেই বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি নবীন সিনহা রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, রিপোর্টটা আপনি পড়েছেন? এভাবে কোনও ভেরিফিকেশন কমিটি রিপোর্ট দিতে পারে? এ তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে ঘরে বসে বানানো। সর্বোচ্চ আদালতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে চুপ করে যায় রাজ্য। অন্যদিকে, আবেদনকারী সংগঠক শিক্ষকদের পক্ষে আইনজীবী অমল গঙ্গোপাধ্যায় এবং শান্তিরঞ্জন দাশ বলেন, রাজ্য সরকারের অবহেলায় কয়েক হাজার চাকরি প্রত্যাশীর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। রাজ্য আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেয়নি। বেঞ্চ তখনই রাজ্যকে নতুন করে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে জানিয়ে দেয় সংগঠক শিক্ষকদের যে মামলা এখানে চলছে, এর বাইরে নতুন করে আর এই বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হবে না। যেগুলি আছে সেগুলিই শুনব। মোট সাতটি মামলার একত্রে শুনানি চলছে।

-Bartaman

Categories:

Tags:

Latest News

ask-me-button